বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৪

নিরুত্তর

অনেক তো  হলো বলা,
এখনো  ভাঙেনি নিস্তব্ধতার মোহ?
এখানে শব্দের উৎসব।
আমরা জেগে রই,
শহরের শেষ পাতাটাও ঝরে পড়ার
                                শব্দ শুনবো বলে।
তোমাদের নির্লজ্জ নিরবতার কাছে ম্লান  মনে হয়-
আমাদের স্পন্দনহীন মৌনতা।
আর্তির নৌকা কি ভিড়েনা ঘাটে?
নাকি  ব্যস্ত বন্দর ঠাসা
চোখ ধাঁধা বর্ণিল জাহাজ।
তার ভিড়ে আমাদের নোঙরহীন ডিঙি
নিরন্তর  ভেসে চলে,
রাহমানের বন্দরে ঠাঁই  করে নেবে বলে।।

রবিবার, ২৯ জুন, ২০১৪

কবিতার প্রহর ৯

আউলাদ

ফররুখ আহমদ


আমি দেখি পথের দু'ধারে ক্ষুধিত শিশুর শব,
আমি দেখি পাশে পাশে উপচিয়া পড়ে যায়
ধনিকের গর্বিত আসব,
আমি দেখি কৃষাণের দুয়ারে দুর্ভিক্ষ বিভীষিকা,
আমি দেখি লাঞ্ছিতের ললাটে জ্বলিছে শুধু অপমান টিকা,
গর্বিতের পরিহাসে মানুষ হ'য়েছে দাস,
নারী হল লুণ্ঠিত গণিকা।

অনেক মঞ্জিল দূরে প'ড়ে আছে মানুষের ঘাঁটি,
এখানে প্রেতের বহির্বাটী
এখানে আবর্তে পথহারা
চলিতেছে যারা
তাদের দিয়েছে ডাক জড়তার ক্রুর আজদাহা,
শতকের সভ্যতায় এরা আজ হল তাই অন্ধ, গুমরাহা।

বাড়ায়ে ত্রস্তের দল, বাড়াবে ভ্রষ্টের দল,
নর-ঘাতকের সাথে, নারী ঘাতকের হাতে
হ'ল এরা শোণিত-চঞ্চল,
হ'ল এরা জালিম, নিষাদ,
মানুষের অমানুষ মৃত আউলাদ।

পায় পায় বাঁধা দেয় শৃঙ্খল-বন্ধন,
থেকে যায় জীবন-স্পন্দন,
মানুষের আদালতে
পাথর-জমানো প্রহসন।

এবার
ক্লীবের প্রতীক এই মানুষের আদালতে নয়,
শয়তানের কাদা মাখা কালো পথে নয়-
এবার আল্লাহ্‌র আদালতে
আমাদের ফরিয়াদ,
ক্ষুধিত লুণ্ঠিত এই মানুষের রিক্ত ফরিয়াদ।

অনেক সভ্যতা জানি মিশেছে ধূলির নীচে, অনেক সমুদ
কত ফেরাউন, কত জালিম পিশাচ নমরুদ
মিশে গেল ধূলিতলে
নতুন যাত্রীর দল দেখা দিল দুর্গম উপলে
উড়ায়ে নিশান
সাথে করে নিয়ে এল জীবনের অ-শ্রান্ত তুফান।
শুনি আজ তাদেরি দামামা
বাতাসে বাতাসে ওড়ে তাহাদের বিজয়ী আমামা
শুনি শুধু তাহাদেরি স্বর
বলিষ্ঠ বক্ষের তলে সুকোমল অন্তরের স্বর...

আর যেন ক্লিষ্ট নাহি হয়,
পথে দেখি পীড়নের ফাঁদ,
আর যেন ভ্রষ্ট নাহি হয়
মানুষের ভবিষ্য দিনের আউলাদ।।

~ (সংক্ষেপিত)

শনিবার, ২৮ জুন, ২০১৪

রহমতের বর্ষণে সিক্ত হতে আপনি তৈরি তো ?


বৃষ্টি নামলে বিভিন্ন নদী, নালা, ডোবা, পুকুর, নিজ নিজ প্রশস্ততা ও গভীরতা অনুযায়ী বৃষ্টির পানি
ধারণ করে। ভূখণ্ডের বিভিন্ন অংশ নিজের উর্বরতা অনুসারে ফসল উৎপাদন করে। অথচ বৃষ্টির পানি ভূখণ্ডের সকল অংশে সমানভাবে বর্ষিত হয়। একটি বড় প্রশস্ত পুকুরে যে পরিমাণ পানি ধারণ করা যায় একটি ছোট কলসির পক্ষে সে পরিমাণ পানি ধারণ করা সম্ভব নয়। এমনিভাবে যদি বিস্তীর্ণ মরুভূমি বা অনুর্বর জমিতে বৃষ্টির পানি পড়ে, তাতো শুধু প্রবাহিত হয়েই চলে যায়। ভূমি তা থেকে উপকৃত হতে পারে না। কিন্তু উর্বর ভূমিতে বৃষ্টির পানি পড়লেই ফসল জীবন্ত হয়ে উঠে। ঠিক একই অবস্থা মানুষের। রমযানুল মোবারকের এ রহমতের বর্ষণ থেকে আপনি কি কিছু পাবেন?

উর্বর ভূমির মত আপনার মন নরম, চক্ষু অবনত করুন, অন্তরে ঈমানের বীজ বপন করুন, নিজের যোগ্যতা ও ধারণ ক্ষমতা থাকলে বীজ অঙ্কুরিত হবে, সম্পূর্ণ বৃক্ষ হবে। আর বৃক্ষ সৎকাজের ফুল-ফল ও পত্ররাজিতে সুশোভিত হয়ে উঠবে। অতপর আপনি সাফল্যের ফসল কেটে ঘরে উঠাবেন। কৃষকের মত আপনি শ্রম দেবেন, কাজ করবেন, প্রতিদানে জান্নাতের পুরস্কারসমূহের ফসল আপনার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকবে। যতবেশি শ্রম দেবেন, ততবেশী ফসল পাবেন। পক্ষান্তরে যদি আপনার মন পাথরের মত শক্ত হয় এবং আপনি অসতর্ক কৃষকের মতো শুয়ে-বসে দিন কাটান, তাহলে রোযা, তারাবীহ, রহমত ও বরকতের সমস্ত পানি বয়ে চলে যাবে এবং আপনার তহবিলে কিছুই আসবে না।

প্রকৃত অর্থে আল্লাহ্‌র দেয়া সুযোগ ছাড়া সত্যিই কিছু পাওয়া যায় না। আর এই আল্লাহ্‌র দেয়া সুযোগ শুধু তাদেরই হস্তগত হয়, যারা চেষ্টা সাধনা ও পরিশ্রম করে। দেখুন এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌ তা'আলা কি বলেন?
আপনি তাঁর দিকে একহাত অগ্রসর হলে আল্লাহ্‌ আপনার দিকে দু'হাত অগ্রসর হবেন। আপনি তাঁর দিকে হেঁটে অগ্রসর হলে তিনি আপনার দিকে দৌঁড়ে অগ্রসর হবেন। - মুসলিম
কিন্তু পেছন দিকে ফিরে, অসচেতন বা বেপরোয়াভাবে আপনি যদি দাঁড়িয়ে থাকেন তাহলে বলুন, আল্লাহ্‌ কিভাবে আপনাকে সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন?

পুরো রমযান মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাবে, আর আপনার তহবিল শূন্য থেকে যাবে, এমন দূর্ভাগ্যজনক অবস্থা কেউ সৃষ্টি করবেন না। কিছু করার জন্য এবং নিজের ভাগের রহমত পাওয়ার জন্য কোমর বেঁধে দাঁড়ান এবং রসূল (সাঃ)-এর এ সতর্কবাণীটি ভালোভাবে স্মরণ রাখুন।
"অনেক রোজাদার এমন আছে, যারা নিজেদের রোজা থেকে ক্ষুৎ-পিপাসার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পায় না। অনেকে রাতের নামাজে পড়ে থাকে, তাদের নামায রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না।" - দারেমী
রসূল সাঃ রমযানের আগমনের পূর্বে সাহাবাদের উদ্দেশ্য করে এ মাসের মহত্ত্ব ও বরকত সম্পর্কে আলোচনা করতেন এবং বরকতের ভাণ্ডার থেকে নিজেদের পরিপূর্ণ অংশ সংগ্রহ করার জন্য ব্যাপক পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিতেন।

- খুররম মুরাদ
বই : খোশ আমদেদ মাহে রমযান

রামাদানের প্রস্তুতি, করণীয়, বর্জনীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে 'কুরআনের আলো' ওয়েবসাইটে পড়তে পারেন
রামাদান বিষয়ক সকল ফাইল - প্রবন্ধ, বই, অডিও/ভিডিও লেকচার 

এছাড়া 'আলোর পথে' ব্লগে রামাদানের প্রস্তুতি সংক্রান্ত লেখাগুলোও পড়ে আসতে পারেন
রামাদান । আলোর পথে

আল্লাহ্‌ যেন আমাদের সকলকে এ রামাদানে আরো বেশী তাকওয়া অর্জনের তৌফিক দান করেন। আমীন।

বুধবার, ২৫ জুন, ২০১৪

শূন্যতার পরিসমাপ্তি

আবারো রাত্রিশেষের নরম ভোর            
কড়া নাড়ছে দরজার,
তার আগমনধ্বনি মিশে গেছে
অপেক্ষার ক্রান্তিকালে দাঁড়ানো আমাদের প্রসন্ন তাকবীরে।

জং ধরা হৃদয়ের টুকরাগুলো
ঝলসে উঠুক আরেকবার,
আর চারপাশে মুক্তোর দানা হয়ে ছড়িয়ে থাকা সময়
অপেক্ষায়...
কুড়িয়ে নেয়ার।
তারপর হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা নিংড়ে দেয়া
অনন্ত প্রেমময়ের প্রতি।
বুঝিবা মহাসিন্ধুর মাঝে একফোঁটা জল
সিক্ত হয়ে উঠা প্রতিটি রগরেশার।

তারপর আবারো অপেক্ষা
শাণিত হয়ে উঠা অব্যর্থ হৃদয়ের,
আরেকটি কালরাত্রির পরাজয়ের সাক্ষ্য হবে বলে।
জুলুমের অন্ধকার ফেটে প্রদীপ্ত হোক সোনালী ভোর,
আর তার আগমনধ্বনি মিশে যাক,
অপেক্ষার ক্রান্তিকালে দাঁড়ানো আমাদের প্রসন্ন তাকবীরে।।










শুক্রবার, ১৬ মে, ২০১৪

ফেসবুক আসক্তি

অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অধিকাংশ সময় ব্যয় হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ
করেন। এটা সত্য যে ফেসবুক, টুইটার এসবের কল্যাণে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় তা আমাদের অনেক উপকার করে চলছে। এর সাহায্যে আমাদের চিন্তা-দর্শন সহজে অন্যের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। তারপরও তারা আসক্তি সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রমাণিত এবং আমাদের বহু মূল্যবান সময় এবং শক্তি এদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে।

এখানে কয়েকটি বিষয়ের কথা উল্লেখযোগ্য

- ইসলাম শুধু পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়েই সীমাবদ্ধ নয়। এটা সত্যিই ভাল যে ফেসবুক আপনাকে নিয়মিত সালাত আদায় থেকে বিরত রাখতে পারে না। আশা করব অন্যান্য দায়িত্বের ব্যাপারেও আপনি সৎ। একজন মুসলিম হিসেবে আপনার দায়িত্ব রয়েছে আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি (সলাত তার মাঝে একটি), আপনার পরিবারের প্রতি (পিতা-মাতার সেবা, সন্তানদের সুশিক্ষা দান, জীবনসঙ্গীর খেয়াল রাখা ইত্যাদি), আপনার সমাজ ও সম্প্রদায়ের প্রতি (অভাবগ্রস্থদের সাহায্য করা, ভাল ও উত্তমকথা পৌঁছানো, ইসলামী দাওয়াত পৌঁছানো বিশেষ করে যাদের দরকার তাদের প্রতি) এবং সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহর প্রতি (অত্যাচারিত ও অভাবগ্রস্থদের প্রতি সাহায্য, সমর্থন ও সমবেদনা জানানো), পরিশেষে আপনার নিজের প্রতি (নিজের আত্মিক উন্নয়ন, অধিক জ্ঞানার্জন, ক্যারিয়ারের উন্নয়ন ইত্যাদি)।

- 'সময়' অনেক বড় একটা দায়িত্ব। রাসূল (সা.) বলেছেন হাশরের দিন আমাদের প্রত্যেকের জীবনকাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। বিশেষ করে যৌবনকাল আমরা কোন পথে ব্যয় করেছি? আপনি কি মনে করেন 'ফেসবুক' একটি ভাল উত্তর হবে?

এ সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমি এ উদ্ধৃতিটি বলব 'যদি তুমি নিজেকে সত্যানুসন্ধানে ব্যস্ত না রাখ, তাহলে অচিরেই অনর্থক ও বাজে জিনিস তোমাকে দখল করে নেবে।' এর মানে আপনার অবশ্যই একটা লক্ষ্য থাকা উচিত যা অর্জনের জন্য সবসময় চেষ্টা করতে হবে। এটা আপনার 'ফেসবুক' ব্যবহারকে কমিয়ে দেবে কারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সময়ের প্রয়োজন।

লক্ষ্য নির্ধারণের সময় খেয়াল রাখুন তা যেন খুব বেশী বড় কিংবা অবাস্তব না হয়ে যায় বরং বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ কোন লক্ষ্যই যেন হয়। এর পাশাপাশি প্রত্যেকদিনের কাজের মূল্যায়ন ও হিসাব করুন। ফেসবুক ব্যবহার কমিয়ে আনাটাও একটি লক্ষ্য হিসেবে রাখতে পারেন। এজন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় নির্ধারণ করুন এবং কোন অবস্থাতেই এই সীমা অতিক্রম করে যাবেন না। প্রয়োজনবোধে প্রতিবার ফেসবুকে বসার আগে অ্যালার্ম বা স্টপওয়াচ ব্যবহার করুন যাতে নির্দিষ্ট সময় শেষে তা আপনাকে জানিয়ে দিতে পারে।
এর পাশাপাশি আপনার অন্যদের সাহায্য ও সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে। সময় কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্ত্রী কিংবা বন্ধুদের মতামত ও মূল্যায়ন করতে বলুন।
এবং সবশেষে কখনোই হতাশ হবেন না কিংবা ছেড়ে দেবেন না। লেগে থাকা এবং নিয়মিত অনুশীলনই আপনার সময় পরিচালনার ক্ষেত্রে ভাল ফলাফল এনে দিবে ইন শা আল্লাহ্‌।।।

ফেসবুক আসক্তি প্রসঙ্গে OnIslam.net করা প্রশ্নের উত্তর থেকে অনূদিত।
 

রবিবার, ১১ মে, ২০১৪

কবিতার প্রহর ৮

বিপরীত উচ্চারণ

আল মাহমুদ

কার্টেসী : www.freebigpictures.com

আমি নিসর্গের ভাষা বুঝি। নৈশব্দও আমার কাছে কখনো কখনো বাঙময়।
শৈশবে গাছ, মাছ, পাখি ও পতঙ্গের সাথে কথা বলে আমি অভ্যস্ত
কিছু অসুবিধে হচ্ছে মানুষকে নিয়ে। আমার ধারণা ছিল             
আমি যখন মানুষ। মানুষের ঘরেই জন্মেছি। তখন পৃথিবীর তাবৎ
মানুষের ভাষা আমি বুঝব।

কত অনায়াসে আমি প্লেনের জানালা দিয়ে মেঘের সাথে কথা বলতে বলতে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আসি।
ব্রাসেলসে এসে প্রবল ধারাবর্ষণের মধ্যে আমি বৃষ্টির ভাষা বুঝি।
বৃষ্টি আমাকে আরও সিক্ত হওয়া
আরও ভেজা বেড়াল হয়ে
প্রতিবাদহীন কবিতায় গূঢ় রহস্য সৃষ্টির কথা বলে।
আমি মুচকি হেসে কফি কাউন্টারে এসে কোলাহলমুখর আকাশযাত্রীদের
মুখনিঃসৃত ধ্বনিতরঙ্গের মধ্যে হাবুডুবু খাই।


মানুষ যে শব্দটি সবচেয়ে বেশী উচ্চারণ করে এর নাম ভালোবাসা।
ভালোবাসা মানেই হল মৃত্যু, হত্যা এবং প্রতিপক্ষের উচ্ছেদসাধন।
মানুষ কোন অবস্থাতেই ঠিক শব্দটি উচ্চারণ করে না। তারা
প্রতিহিংসাকে লুকিয়ে রাখতে 'প্রেম' শব্দটি ব্যবহার করে। প্রেম
মানেই হলো গুপ্ত হত্যার আয়োজন।
আমাকে কবি হতে হলে মানুষের ভাষা বুঝতে হবে বৈকি!
আমি কি জানতাম প্রিয়জনের উচ্চারিত 'প্রিয়তম' শব্দের মানে হল
               'শুয়োরের বাচ্চা'?

আমাকে শিখতে হবে।
যেমন আমি একদা বৃক্ষের আওয়াজ থেকে অর্থ বের করে নিতাম।
নদীর কাছ থেকে রপ্ত করেছিলাম তরঙ্গের ভাষা।
আমি গোখরো সাপের হিসহিসানির মধ্যেও কোন জটিলতা দেখি না।
কিন্তু মানুষ যখন রাজনীতি, মানবকল্যাণ ও গণতন্ত্রের কথা বলে
তখন যেন মনে হয় একটা আস্ত দেশকে কতিপয় গূঢ়ার্থবাদী পিশাচ
                  ছারখার করে দিচ্ছে?
মানুষের ভাষার মত দুর্বোধ্য পৃথিবীতে আর কিছু নেই।

শুক্রবার, ২ মে, ২০১৪

অনাহুত

রাতের কাজগুলো মোটামুটি গুছিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আগামীকালের করণীয় কাজগুলোর কথা ভাবছিলাম। অনেক কিছুর না হওয়ার সম্ভাবনাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। হঠাৎ করে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল হলটা। প্রথমটায় কিছুই বুঝে উঠতে পারি নি। রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে মেয়েদের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসার শব্দে বুঝলাম ভুমিকম্প হয়েছে।

কত পরিকল্পনাই না করে ঘুমাতে যাচ্ছিলাম! অথচ আজ রাতও হতে পারত আমার জীবনের শেষ রাত। যদি ঘুমের মাঝে নেমে আসে এমনই কোন আযাব! কেন জানি এই অনিবার্য সত্যটা বার বার ভুলে যাই। মুহূর্তের এ ধাক্কাটা যেন তারই স্মরণ করিয়ে দিল।
 অথচ কিছুক্ষণ পরেই পুরো ব্যাপারটা একটা মজায় পরিণত হলো। যে ভয় নিয়ে সবাই নেমে এসেছিল তার চেয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে সবাই এখন উপরে উঠছে। যেন সবাই তাদের অনন্ত জীবন পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গেছে। মনে পড়লো গতকাল সন্ধ্যায় পড়া সূরা মুলক এর একটি আয়াত

"যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের মাটির মধ্যে ধসিয়ে দেবেন এবং অকস্মাৎ ভূপৃষ্ঠ জোরে ঝাঁকুনি খেতে থাকবে এ ব্যাপারে কি তোমরা নির্ভয় হয়ে গিয়েছো?"
- সূরা মুলক : ১৭

আসলেই দুনিয়ার নেশায় আমরা এমনই বুঁদ হয়ে আছি যে যতক্ষণ পর্যন্ত না নিজের উপর বড় কোন বিপদ এসে না পড়ছে ততক্ষণ আমাদের হুঁশ ফেরানো মুশকিল।
আল্লাহ্‌ যেন আমাদের সকলকে হিদায়াত দান করেন। আমীন।