শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

কবিতার প্রহর ১০

প্রার্থনার  ভাষা

আল মাহমুদ


মানুষের নভোযান, খেয়া আর প্রযুক্তি তাড়িত বিশাল যান্ত্রিক উৎক্ষেপ
সবি নিরর্থক স্বপ্নের জ্বালানিতে ব্যর্থতার সমুদ্রে সাঁতার মাত্র।
আমি চাই অন্য কিছু
আমার গতি তুমি তো জানো প্রভু কোন দিকে ধাবমান।
আমার রক্ত-মাংসে সেই ফেলে আসা চুম্বকের টান।
যেখান থেকে আমাদের পিতা-মাতা
কেবল জ্ঞানের লোভে, অমরতা ও আত্মতৃপ্তির আকাঙ্ক্ষায়
একদা কানাকড়ির মূল্যে হারিয়ে ছিলেন বেহেশত। সেই
মহাউদ্যানের টান আমার রক্তে, আমার মাংসে ও মজ্জায়।
দাও তাকে ফিরিয়ে আমায়।
প্রার্থনার ভাষা দাও প্রভু, নির্জ্ঞান আত্মসমর্পনের সহজতা।
আমি কি পাড়ি দিয়ে যাচ্ছি না হাঙরকুল সমুদ্রের চেয়ে দুরূহ
যে আয়ু?
সেই দিন এবং রাত্রি?
উদয় আর অস্ত।
আঁধার আর আলো। না
আলো আর অন্ধকার আর নয়। জ্বলুক তোমার নূরের দীপ্তি
যা ভেদ করে যায় পৃথিবীর উদরে লুকানো সমস্ত গলিত ধাতুর
                                                  সাতপরত পর্দা।
পৌঁছুতে চাই প্রভু তোমার সান্নিধ্যে
তোমার সিংহাসনের নীচে  একটি ফুরফুরে প্রজাপতি হয়ে।
যার পাখায় আঁকা অনাদিকালের অনন্ত রহস্য।


রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৪

একাকীত্বের পথে

ট্রেনে ওঠার পর থেকে সেই যে মুখ বন্ধ হওয়া তার আর বিরাম নেই। একাকীত্বের শুরুটা ওখান থেকেই। বার ঘণ্টা পর যখন ষ্টেশন এসে পৌঁছলাম স্বাভাবিকভাবেই কেউ নিতে আসার কথা না। সত্যটা জানার পরও কেমন যেন শূন্যতা অনুভব করছিলাম। জনতার ভীড়ে তা যেন আরও প্রকট হয়ে উঠছিল।
তারপরের যাত্রা সংক্ষিপ্ত। অটোরিকশায় আধঘণ্টাতেই পৌঁছে যাওয়ার। গন্তব্য ছাত্রী হল। কিন্তু হলের গেটে এসে একাকীত্বের বিশালতায় যেন বড় একটা হোঁচট খেলাম। ব্যক্তিগত কাজ থাকায় ছুটি শেষ হওয়ার দু'দিন আগেই চলে এসেছি। এন্ট্রি খাতায় স্বাক্ষর করতে যেয়ে দেখি গতকাল মাত্র একজন এসেছে। প্রায় সাড়ে চারশ মেয়ের থাকার জায়গা এই হলে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে যখন প্রবেশ করছি তখন রাত প্রায় দশটা। প্রত্যেকটা রুমের গুমোট অন্ধকার আমাকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করছিল যে পা ফেলতেই কষ্ট হচ্ছিল। রুমে এসে ঘরে-বাইরে সাধ্যের মধ্যে থাকা সবগুলো লাইট ই জ্বেলে দিলাম।

এই যে অন্ধকার আর নিঃসঙ্গতা, অল্পসময়েই এর মাঝে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। অথচ আমি জানি এর শেষ আছে। কাল-পরশুর মাঝেই হলের প্রাণচঞ্চলতা ফিরে আসবে। কিন্তু অনিচ্ছাসত্ত্বেও এক পা এক পা করে যে পরম একাকীত্বের দিকে যাচ্ছি, এর শেষ কোথায়? জমাট বাঁধা সে অন্ধকার ঘরে সমস্ত প্রিয়জন একাকী ফেলে চলে আসবে। এ নিয়তি এড়ায় সাধ্য কার! সেদিন চাইলেও কারও সাথে কথা বলা যাবেনা। ঘুটঘুটে আঁধার হবে নিত্যসঙ্গী। শুধু তাঁরা ব্যতীত দয়াময় প্রভু যাদের নিজ থেকে আলো দেবেন। সে পাথেয় কোথায়!

মৃত্যু, চারপাশে ঘটে যাওয়া দৃশ্যগুলোর মাঝে সবচেয়ে পরিচিত ঘটনা। তারপর ও কোন এক অজানা কারণে আমরা তা ভুলে থাকতে চাই। মনে হয় আমার কিছু হবে না। যা হওয়ার অন্য লোকের। অথচ নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে আসলে এক মুহূর্ত ও বিলম্ব করা হবে না। You will die এই ভিডিওটা কয়েকমাস পর আবার দেখলাম। বিক্ষিপ্ত মন তবুও যদি কেন্দ্রীভূত হয়!
চলে যাওয়ার আগে যেন আল্লাহ্‌ আমাদের সকলকে সতর্ক হওয়ার তৌফিক দান করেন। আমীন। 

"আল্লা-হুম্মাজ'আল লী নূরান ফী ক্বাবরী ওয়া নূরান ফী 'ইযা-মী।"
অর্থ : হে আল্লাহ্‌! আমার কবরকে আমার জন্য জ্যোতির্ময় করে দাও, আমার হাড্ডিসমূহেও।
                                                                                তিরমিযী ৩৪১৯
      

সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০১৪

আল্লাহ্‌র দিকে আহবান

একদিন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)- এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললো, "আমি ন্যায়ের আদেশ এবং অন্যায়ের নিষেধ- এর কাজ করতে চাই।"
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বললেন, "তুমি কি এই কাজের উপযুক্ততা অর্জন করেছো?" সে বললো , "আমি তো তাই আশা করি।"
তখন তিনি বললেন, "আল্লাহ্‌র কিতাবের তিনটি আয়াতের অসম্মান করার আশংকা না থাকলে তুমি এ কাজে নামতে পার।" লোকটি বললো, "ওগুলো কোন কোন আয়াত?" তিনি (রা) বললেন -
"["তোমরা কি লোকেদের ভালো কাজের কথা বল অথচ নিজেরা তা ভুলে যাও?" (সূরা বাকারাহ)]
এর উপর কি ভালভাবে আমল করেছো?" সে বললো, "না।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন -
"["তোমরা এমন কথা কেন বলো যা নিজেরা কর না?" (সূরা আস-সফ)] এর উপর কি ভালভাবে আমল করেছো?" লোকটি জবাব দিল, "না।" তিনি বলেন -
"["আমার ইচ্ছা এটা নয় যে আমি তোমাদেরকে যা নিষেধ করি তা নিজে করবো।" (সূরা হূদ)] তুমি কি এর উপর ভালোভাবে আমল করেছো?" সে বললো, "না।"
তখন তিনি বললেন, "তাহলে তোমার নিজের উপরই প্রথমে দাওয়াতের কাজ শুরু করো।"

সর্বপ্রথম আমার নিজের উপর প্রযোজ্য। আল্লাহ্‌ যেন আমাদের চরিত্র ও আচরণ তাঁর রঙে রাঙিয়ে নেয়ার তৌফিক দান করেন। আমীন। শেষ করছি একটি হাদীস দিয়ে

উসামা ইবনে যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি : কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, ফলে তার নাড়ি-ভুঁড়ি বেরিয়ে আসবে। সে এটা নিয়ে এমনভাবে চক্কর দিতে থাকবে যেভাবে গাধা চক্রের মধ্যে ঘুরে থাকে। জাহান্নামীরা তার চারপাশে সমবেত হয়ে জিজ্ঞেস করবে, হে অমুক! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি কি সৎ কাজের নির্দেশ দিতে না এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখতে না? সে বলবে, হাঁ আমি সৎ কাজের নির্দেশ দিতাম, কিন্তু নিজে তা করতাম না। আমি অন্যদেরকে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলতাম, কিন্তু আমি নিজেই তা করতাম।
হাদিসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।


বই সহায়িকা :
রিয়াদুস স্বলিহীন
আল্লাহ্‌র দিকে আহবান 

বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৪

নিরুত্তর

অনেক তো  হলো বলা,
এখনো  ভাঙেনি নিস্তব্ধতার মোহ?
এখানে শব্দের উৎসব।
আমরা জেগে রই,
শহরের শেষ পাতাটাও ঝরে পড়ার
                                শব্দ শুনবো বলে।
তোমাদের নির্লজ্জ নিরবতার কাছে ম্লান  মনে হয়-
আমাদের স্পন্দনহীন মৌনতা।
আর্তির নৌকা কি ভিড়েনা ঘাটে?
নাকি  ব্যস্ত বন্দর ঠাসা
চোখ ধাঁধা বর্ণিল জাহাজ।
তার ভিড়ে আমাদের নোঙরহীন ডিঙি
নিরন্তর  ভেসে চলে,
রাহমানের বন্দরে ঠাঁই  করে নেবে বলে।।

রবিবার, ২৯ জুন, ২০১৪

কবিতার প্রহর ৯

আউলাদ

ফররুখ আহমদ


আমি দেখি পথের দু'ধারে ক্ষুধিত শিশুর শব,
আমি দেখি পাশে পাশে উপচিয়া পড়ে যায়
ধনিকের গর্বিত আসব,
আমি দেখি কৃষাণের দুয়ারে দুর্ভিক্ষ বিভীষিকা,
আমি দেখি লাঞ্ছিতের ললাটে জ্বলিছে শুধু অপমান টিকা,
গর্বিতের পরিহাসে মানুষ হ'য়েছে দাস,
নারী হল লুণ্ঠিত গণিকা।

অনেক মঞ্জিল দূরে প'ড়ে আছে মানুষের ঘাঁটি,
এখানে প্রেতের বহির্বাটী
এখানে আবর্তে পথহারা
চলিতেছে যারা
তাদের দিয়েছে ডাক জড়তার ক্রুর আজদাহা,
শতকের সভ্যতায় এরা আজ হল তাই অন্ধ, গুমরাহা।

বাড়ায়ে ত্রস্তের দল, বাড়াবে ভ্রষ্টের দল,
নর-ঘাতকের সাথে, নারী ঘাতকের হাতে
হ'ল এরা শোণিত-চঞ্চল,
হ'ল এরা জালিম, নিষাদ,
মানুষের অমানুষ মৃত আউলাদ।

পায় পায় বাঁধা দেয় শৃঙ্খল-বন্ধন,
থেকে যায় জীবন-স্পন্দন,
মানুষের আদালতে
পাথর-জমানো প্রহসন।

এবার
ক্লীবের প্রতীক এই মানুষের আদালতে নয়,
শয়তানের কাদা মাখা কালো পথে নয়-
এবার আল্লাহ্‌র আদালতে
আমাদের ফরিয়াদ,
ক্ষুধিত লুণ্ঠিত এই মানুষের রিক্ত ফরিয়াদ।

অনেক সভ্যতা জানি মিশেছে ধূলির নীচে, অনেক সমুদ
কত ফেরাউন, কত জালিম পিশাচ নমরুদ
মিশে গেল ধূলিতলে
নতুন যাত্রীর দল দেখা দিল দুর্গম উপলে
উড়ায়ে নিশান
সাথে করে নিয়ে এল জীবনের অ-শ্রান্ত তুফান।
শুনি আজ তাদেরি দামামা
বাতাসে বাতাসে ওড়ে তাহাদের বিজয়ী আমামা
শুনি শুধু তাহাদেরি স্বর
বলিষ্ঠ বক্ষের তলে সুকোমল অন্তরের স্বর...

আর যেন ক্লিষ্ট নাহি হয়,
পথে দেখি পীড়নের ফাঁদ,
আর যেন ভ্রষ্ট নাহি হয়
মানুষের ভবিষ্য দিনের আউলাদ।।

~ (সংক্ষেপিত)

শনিবার, ২৮ জুন, ২০১৪

রহমতের বর্ষণে সিক্ত হতে আপনি তৈরি তো ?


বৃষ্টি নামলে বিভিন্ন নদী, নালা, ডোবা, পুকুর, নিজ নিজ প্রশস্ততা ও গভীরতা অনুযায়ী বৃষ্টির পানি
ধারণ করে। ভূখণ্ডের বিভিন্ন অংশ নিজের উর্বরতা অনুসারে ফসল উৎপাদন করে। অথচ বৃষ্টির পানি ভূখণ্ডের সকল অংশে সমানভাবে বর্ষিত হয়। একটি বড় প্রশস্ত পুকুরে যে পরিমাণ পানি ধারণ করা যায় একটি ছোট কলসির পক্ষে সে পরিমাণ পানি ধারণ করা সম্ভব নয়। এমনিভাবে যদি বিস্তীর্ণ মরুভূমি বা অনুর্বর জমিতে বৃষ্টির পানি পড়ে, তাতো শুধু প্রবাহিত হয়েই চলে যায়। ভূমি তা থেকে উপকৃত হতে পারে না। কিন্তু উর্বর ভূমিতে বৃষ্টির পানি পড়লেই ফসল জীবন্ত হয়ে উঠে। ঠিক একই অবস্থা মানুষের। রমযানুল মোবারকের এ রহমতের বর্ষণ থেকে আপনি কি কিছু পাবেন?

উর্বর ভূমির মত আপনার মন নরম, চক্ষু অবনত করুন, অন্তরে ঈমানের বীজ বপন করুন, নিজের যোগ্যতা ও ধারণ ক্ষমতা থাকলে বীজ অঙ্কুরিত হবে, সম্পূর্ণ বৃক্ষ হবে। আর বৃক্ষ সৎকাজের ফুল-ফল ও পত্ররাজিতে সুশোভিত হয়ে উঠবে। অতপর আপনি সাফল্যের ফসল কেটে ঘরে উঠাবেন। কৃষকের মত আপনি শ্রম দেবেন, কাজ করবেন, প্রতিদানে জান্নাতের পুরস্কারসমূহের ফসল আপনার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকবে। যতবেশি শ্রম দেবেন, ততবেশী ফসল পাবেন। পক্ষান্তরে যদি আপনার মন পাথরের মত শক্ত হয় এবং আপনি অসতর্ক কৃষকের মতো শুয়ে-বসে দিন কাটান, তাহলে রোযা, তারাবীহ, রহমত ও বরকতের সমস্ত পানি বয়ে চলে যাবে এবং আপনার তহবিলে কিছুই আসবে না।

প্রকৃত অর্থে আল্লাহ্‌র দেয়া সুযোগ ছাড়া সত্যিই কিছু পাওয়া যায় না। আর এই আল্লাহ্‌র দেয়া সুযোগ শুধু তাদেরই হস্তগত হয়, যারা চেষ্টা সাধনা ও পরিশ্রম করে। দেখুন এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌ তা'আলা কি বলেন?
আপনি তাঁর দিকে একহাত অগ্রসর হলে আল্লাহ্‌ আপনার দিকে দু'হাত অগ্রসর হবেন। আপনি তাঁর দিকে হেঁটে অগ্রসর হলে তিনি আপনার দিকে দৌঁড়ে অগ্রসর হবেন। - মুসলিম
কিন্তু পেছন দিকে ফিরে, অসচেতন বা বেপরোয়াভাবে আপনি যদি দাঁড়িয়ে থাকেন তাহলে বলুন, আল্লাহ্‌ কিভাবে আপনাকে সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন?

পুরো রমযান মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাবে, আর আপনার তহবিল শূন্য থেকে যাবে, এমন দূর্ভাগ্যজনক অবস্থা কেউ সৃষ্টি করবেন না। কিছু করার জন্য এবং নিজের ভাগের রহমত পাওয়ার জন্য কোমর বেঁধে দাঁড়ান এবং রসূল (সাঃ)-এর এ সতর্কবাণীটি ভালোভাবে স্মরণ রাখুন।
"অনেক রোজাদার এমন আছে, যারা নিজেদের রোজা থেকে ক্ষুৎ-পিপাসার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পায় না। অনেকে রাতের নামাজে পড়ে থাকে, তাদের নামায রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না।" - দারেমী
রসূল সাঃ রমযানের আগমনের পূর্বে সাহাবাদের উদ্দেশ্য করে এ মাসের মহত্ত্ব ও বরকত সম্পর্কে আলোচনা করতেন এবং বরকতের ভাণ্ডার থেকে নিজেদের পরিপূর্ণ অংশ সংগ্রহ করার জন্য ব্যাপক পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিতেন।

- খুররম মুরাদ
বই : খোশ আমদেদ মাহে রমযান

রামাদানের প্রস্তুতি, করণীয়, বর্জনীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে 'কুরআনের আলো' ওয়েবসাইটে পড়তে পারেন
রামাদান বিষয়ক সকল ফাইল - প্রবন্ধ, বই, অডিও/ভিডিও লেকচার 

এছাড়া 'আলোর পথে' ব্লগে রামাদানের প্রস্তুতি সংক্রান্ত লেখাগুলোও পড়ে আসতে পারেন
রামাদান । আলোর পথে

আল্লাহ্‌ যেন আমাদের সকলকে এ রামাদানে আরো বেশী তাকওয়া অর্জনের তৌফিক দান করেন। আমীন।

বুধবার, ২৫ জুন, ২০১৪

শূন্যতার পরিসমাপ্তি

আবারো রাত্রিশেষের নরম ভোর            
কড়া নাড়ছে দরজার,
তার আগমনধ্বনি মিশে গেছে
অপেক্ষার ক্রান্তিকালে দাঁড়ানো আমাদের প্রসন্ন তাকবীরে।

জং ধরা হৃদয়ের টুকরাগুলো
ঝলসে উঠুক আরেকবার,
আর চারপাশে মুক্তোর দানা হয়ে ছড়িয়ে থাকা সময়
অপেক্ষায়...
কুড়িয়ে নেয়ার।
তারপর হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা নিংড়ে দেয়া
অনন্ত প্রেমময়ের প্রতি।
বুঝিবা মহাসিন্ধুর মাঝে একফোঁটা জল
সিক্ত হয়ে উঠা প্রতিটি রগরেশার।

তারপর আবারো অপেক্ষা
শাণিত হয়ে উঠা অব্যর্থ হৃদয়ের,
আরেকটি কালরাত্রির পরাজয়ের সাক্ষ্য হবে বলে।
জুলুমের অন্ধকার ফেটে প্রদীপ্ত হোক সোনালী ভোর,
আর তার আগমনধ্বনি মিশে যাক,
অপেক্ষার ক্রান্তিকালে দাঁড়ানো আমাদের প্রসন্ন তাকবীরে।।